Sunday, March 3, 2024
Homeজীবনীমহেন্দ্র সিং ধোনি জীবনী | MS Dhoni Biography in Bengali

মহেন্দ্র সিং ধোনি জীবনী | MS Dhoni Biography in Bengali

মহেন্দ্র সিং ধোনির জীবনী

মহেন্দ্র সিং ধোনি জীবনী PDF | MS Dhoni Biography in Bengali PDF

মহেন্দ্র সিং ধোনি জীবনী
মহেন্দ্র সিং ধোনি জীবনী

আজ আপনাদের কাছে উপস্থাপন করলাম মহেন্দ্র সিং ধোনির জীবনী। যেটিতে খুব সুন্দর ও সহজ-সরল ভাষায় মহেন্দ্র সিং ধোনির জীবনী সম্পর্কে আলোচনা করা আছে। আমরা আশা রাখছি এই প্রতিবেদনটি আপনাদের মহেন্দ্র সিং ধোনি সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে।

মহেন্দ্র সিং ধোনি
নামমহেন্দ্র সিং ধোনি
জন্ম৭ই জুলাই ১৯৮১
জন্মস্থানরাঁচি, ঝাড়খণ্ড, ভারত
ডাকনামমাহি, এমএস, এমএসডি, ক্যাপ্টেন কুল
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি

ভারতীয় ক্রীড়া জগতের ইতিহাসে কিংবদন্তী খেলোয়াড় মহেন্দ্র সিং ধোনি শুধু ভারতবাসীর কাছে নয়, সমগ্র বিশ্ববাসীর কাছে অবিস্মরণীয় নাম। ক্রীড়া ঐতিহ্যে ভারতীয় ক্রিকেটে অসাধারণ অধিনায়কত্বের জন্য তাকে ‘ক্যাপ্টেন কুল’ নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ক্যাপ্টেনিং, কিপিং, ব্যাটিং, ফিল্ডিং – সর্বত্রই তিনি তাঁর কৃতিত্বের পরিচয় রেখে দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেটপ্রেমী বিশ্ববাসীকে মোহিত করে রেখেছেন। ক্রিকেট থেকে তাঁর অবসর ক্রীড়া প্রেমীদের কাছে সত্যই হতাশার।

ব্যক্তিগত জীবন

ক্রীড়া জগতের অসাধারণ কৃতিত্বের অধিকারী মহেন্দ্র সিং ধোনি ৭ই জুলাই ১৯৮১ সালে স্বাধীন ভারতবর্ষের বিহারের রাঁচিতে (অধুনা ঝাড়খণ্ডে) এক অতি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা পান সিং ও মাতা দেবকী দেবী -র কনিষ্ঠ সন্তান ছিলেন ধোনি। বড় দাদা নরেন্দ্র সিং ও দিদি জয়ন্তী দেবীই ছিলেন তার প্রথম ক্রীড়া জীবনের সঙ্গী। শৈশব থেকেই মাহি নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। ধোনি তার সহধর্মিণী রূপে সাক্ষী রাওয়াতের সঙ্গে ২০১০ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। মহেন্দ্র সিং ধোনি ও সাক্ষী ধোনির একমাত্র কন্যা জিভা সিং।

শিক্ষা জীবন

মহেন্দ্র সিং ধোনির প্রাথমিক শিক্ষা চালু হয় রাঁচির নিকট শ্যামলীতে ডিএভি জহর বিদ্যা মন্দিরে। এখান থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও হাতে খড়ি হয়। এখানে তিনি ব্যাডমিন্টন ও ফুটবল খেলার প্রশিক্ষণ নিতে থাকেন।

খেলার ধরণ

মহেন্দ্র সিং ধোনি শৈশবে গোলকিপার হিসাবে প্রশিক্ষণ শুরু করলেও তিনি পরবর্তীতে হয়ে উঠেছেন এক সফল ডানহাতি ব্যাটসম্যান ও উইকেটরক্ষক। তবে তিনি এযাবৎ জুনিয়র উইকেটরক্ষক হিসেবে সর্বকালের সেরা হয়ে উঠেছেন। মাহির বিহার ক্রিকেট দলে অভিষেক ঘটে ১৯৯৮-১৯৯৯ মরশুমে। এরপর ২০০৪ সালে ভারতীয় এ দলের হয়ে কেনিয়া সফরে যান। অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য ঐ বৎসরই ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য হিসেবে মনোনীত হন।

২০০৫ সালে ধোনি তার ব্যক্তিগত পঞ্চম একদিবসীয় ক্রিকেটে পাকিস্তান জাতীয় দলের বিপক্ষে প্রথম ভারতীয় উইকেট রক্ষক – ব্যাটসম্যান হিসেবে সর্বোচ্চ ১৪৮ রান করেন। এ বছরই তিনি নিজের রেকর্ড ভেঙে তৎকালীন বিশ্বরেকর্ড হিসেবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৮৩ রানের ধামাকধার পারফরমেন্স করেন। সীমিত ওভার ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্যের পরই টেস্ট টিমে অভিষেক ঘটে। এসময় ধারাবাহিক ক্রীড়া নৈপুণ্যের গুনে আইসিসি ওডিআই রেটিংয়ে ১নং ব্যাটসম্যান হিসেবে মর্যাদা পান ধোনি। ২০০৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সহ অধিনায়ক হিসেবে পথ চলা শুরু হয়।

অধিনায়ক হিসেবে

২০০৭ সালে ইংল্যান্ড সফরে একদিবসীয় ক্রিকেটে সহ অধিনাকত্বের কাজ সম্পন্ন করার পরই সেপ্টেম্বর ২০০৭ সালে আইসিসি বিশ্বকাপ টি20 ক্রিকেটে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন। এখানে যথাযোগ্য নেতৃত্ব দানের মাধ্যমে ফাইনালে চির প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান দলকে কার্যত পরাজিত করে প্রথম টি20 বিশ্বকাপ জয়ী দলের মর্যাদা লাভ করেন।

তারপর ঐ বৎসরের সেপ্টেম্বর মাসে অস্ট্রেলিয়া সফরে একদিবসীয় ক্রিকেটের অধিনায়ক হিসেবে ডাক পান। নভেম্বর ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নাগপুরে চতুর্থ ও চূড়ান্ত ম্যাচে অনিল কুম্বলের অবসরকালে ধোনি অধিনায়ক হিসেবে ভারতীয় টেস্ট দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নেতৃত্বেই দীর্ঘ ২০ বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে সক্ষম হয়েছে।

এরপর একে একে আইসিসির সমস্ত ফরম্যাটে যথা টি20 বিশ্বকাপ (২০০৭) ও ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয় (২০১১), টেস্টে র‍্যার্ঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান দখল (২০০৯) ও চ্যাম্পিয়ান্স ট্রফির (২০১৩) জয়লাভ করার মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছেন বিশ্বের এক অনন্য সাফল্যের অধিকারী। তিনিই বিশ্বের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে আইসিসির সব টুর্নামেন্ট জয় করার কৃতিত্ব রয়েছে। এছাড়া দেশে-বিদেশে সাফল্যের নিরিখে ভারতীয় ক্রিকেটে এক বিরল রেকর্ড স্থাপনের মাধ্যমে হয়ে উঠেছেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ অধিনায়ক।

ঘরোয়া ক্রিকেট

ধোনি ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে বিহার ক্রিকেট এসোসিয়েশনের অনুর্ধ্ব ১৯ দলে যুক্ত হন। ৫টি খেলায় ৭টি ইনিংসে ১৭৬ রান করে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ১৯৯৯-২০০০ মৌশুমে বিহার ক্রিকেটের হয়ে রঞ্জি খেলায় অংশ গ্রহণ করে। ২০০০-০১ মৌসুমে বেঙ্গল ক্রিকেটের বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ১ম সেঞ্চুরী করেন। এছাড়াও ইস্ট জোন ক্রিকেটের পক্ষে দেওধর ট্রফি জয়ের ব্যাপক ভূমিকা রাখেন।

ধোনি এহেন সাফল্যের জন্য ২০০৩-০৪ মৌসুমে ভারতীয় দলের হয়ে জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া সফরে যান। পরে পাকিস্তান দলের বিরুদ্ধে দুটি সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি ৭টি খেলায় ৬টি ইনিংসে ৭২.৪০ গড়ে ৩৬২ রান করে জাতীয় দলের তৎকালীন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী, রবি শাস্ত্রী প্রমুখর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ভারতের খুবই জনপ্ৰিয় আইপিএল বা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়াম লিগে ২০০৮সালে ১.৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে চেন্নাই সুপার কিংসের দলে এযাবৎ খেলছেন। এছাড়াও ধোনি বর্তমান দলের অধিনায়ক।

ক্রিকেটের কেরিয়ার

মহেন্দ্র সিং ধোনির জীবনের মোহিন্দ্রক্ষন আসে ২৩শে ডিসেম্বর ২০০৪ সালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতীয় জাতীয় দলের হয়ে একদিনের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে। যদিও অভিষেক ম্যাচে ধোনিকে শূন্য রানে রান আউট হয়ে ফিরতে হয়। ঠিক তার পরের বছরই ২০০৫ সালের ২রা ডিসেম্বর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তার কেরিয়ারের প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলেন। ২০০৬ সালের ১লা ডিসেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তার প্রথম আন্তর্জাতিক টি20 ম্যাচ খেলেন।

পরিসংখ্যান অনুপাতে ধোনি তার কেরিয়ারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯০টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ৬টি শতরান , ৩৩টি অর্ধশতরান, ২৫৬টি ক্যাচ, ৩৮টি স্ট্যাম্পিং ও সর্বাধিক ২২৪ রান সহ ৪৮৭৬ রান করেন। একদিনের ক্রিকেটে ৩৫০ ম্যাচে ১০টি শতরান, ৭৩টি অর্ধশতরান, ৩২১টি ক্যাচ ও ১২৩টি স্ট্যাম্পিং, ১টি উইকেট ও সর্বোচ্চ ১৮৩ রান সহ মোট ১০৭৭৩ রান করেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক টি20 ক্রিকেটে ৯৮ ম্যাচে ২টি অর্ধশতরান, ৫৭টি ক্যাচ, ৩৪টি ক্যাচ ও সর্বোচ্চ ৫৬ রান সহ মোট ১৬১৭ রান করেন।

অবসর

২০১৪-১৫ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে তার  শেষ টেস্ট সিরিজে অংশ নেওয়ার পর ডিসেম্বর ২০১৪ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। শেষ টেস্টে ৮টি ক্যাচ ও ১টি স্টাম্পিং সহ ৯টি আউটে সহায়তা করেন যা এক রেকর্ডও বটে।

পরবর্তীতে সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ১৫ই আগষ্ট ২০২০তে ৭৪তম স্বাধীনতা দিবসের দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেন। ইন্সট্রাগ্রামে ধোনি এক ভিডিও বার্তায় আন্তর্জাতিক টি20 ও একদিবসীয় ক্রিকেট থেকে অবসরের কথা ঘোষণা করেন। ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০১৯ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তার কেরিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক টি20 ম্যাচ খেলেন। ৯ই জুলাই ২০১৯ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচই তার কেরিয়ারের একদিবসীয় ক্রিকেটের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

পুরস্কার ও সম্মাননা

ভারতীয় ক্রিকেট দলের উইকেট রক্ষক-ব্যাটসম্যান তথা এদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার খেলোয়াড় জীবনে পেয়েছেন অসীম ভারতবাসীর ভালোবাসা। ধোনিই প্রথম ভারতীয় হিসেবে ২০০৮ ও ২০০৯ সালে আইসিসির একদিনের ক্রিকেটে বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান। এছাড়াও ভারতের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান ‘রাজীব গান্ধী খেলরত্ন পুরস্কার’ ও দেশের চতুর্থ বেসামরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কার পেয়েছেন।

মহেন্দ্র সিং ধোনি জীবনী PDF

File Details :


File Name : MS Dhoni Biography
Language : Bengali
No. of Pages : 02
Size : 01 MB

Also Check :
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Recent posts

popular posts