Saturday, April 13, 2024
Homeজীবনীভগৎ সিং এর জীবনী | Bhagat Singh Biography in Bengali

ভগৎ সিং এর জীবনী | Bhagat Singh Biography in Bengali

ভগত সিং জীবনী

ভগৎ সিং এর জীবনী PDF | Bhagat Singh Biography in Bengali PDF

ভগৎ সিং এর জীবনী
ভগৎ সিং এর জীবনী

আজকের পোস্টে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী ভগৎ সিং এর জীবনী সম্পর্কে আলোচনা করলাম। যেটিতে ভগত সিং এর শিক্ষা জীবন, কর্ম জীবন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, সম্মাননা ইত্যাদি সমস্ত কিছু উল্লেখ করা আছে। সুতরাং পোস্টটি ভালো করে দেখে নিন এবং প্রয়োজনে পিডিএফটি সংগ্রহ করে নিন।

ভগৎ সিং জীবনী

অন্ধকার ছিল যখন
এই ভারতমাতার বুকে,
তোমার মতো বীরসেনানী
আলো দেখলো স্বাধীনতার চিত্তে।

ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে অন্যতম জাতীয়তাবাদী প্রভাবশালী ব্যক্তি ভগৎ সিং। যাহার জীবন সংগ্রাম মাতৃসম ভারতমাতাকে এনে দিয়েছেন স্বাধীনতার স্বাদ। তার এরূপ বিপ্লবী মনোভাব ভারতীয় যুবকদের মধ্যে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটায়।

নামভগৎ সিং বা ভগৎ সিংহ
জন্ম২৮শে সেপ্টেম্বর, ১৯০৭
জন্মস্থানলায়ালপুর, পাঞ্জাব, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু২৩শে মার্চ, ১৯৩১

ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিযুগের শহীদ বিপ্লবী ভগৎ সিং ২৮শে সেপ্টেম্বর ১৯০৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লায়ালপুর জেলার নিকটস্থ খাতকর কালান গ্রামের এক জট সান্ধু শিখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা সর্দার কিষান সিংহ সান্ধু মাতা বিদ্যাবতী ও পরিবারের প্রায় সকলেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে দেশপ্রেমিক শিখ পরিবারের সদস্য। বলাবাহুল্য ভগৎ সিংয়ের দাদাঠাকুর অর্জুন সিংহ ছিলেন হিন্দু সমাজ সংস্কার আন্দোলনের তথা আর্য সমাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সময়ের পরবর্তীতে ভগৎ সিংও এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

শিক্ষা জীবন

তৎকালীন সময়ে অধিকাংশ স্কুলে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের আনুগত্য পালন করার জন্য ঠাকুরদা ওই সকল স্কুলে পাঠাতে রাজি ছিলেন না। তাই ভগৎ সিং এর পিতা তাঁকে আর্যসমাজি বিদ্যালয় দয়ানন্দ অ্যা‍ংলো বৈদিক স্কুলে ভর্তি করেন। সেখান প্রকাশ্যে ব্রিটিশ রাজশক্তির বিরোধিতা পূর্বক স্কুলের পাঠ্যবই ও বিলাতি স্কুল ইউনিফর্ম পুড়িয়ে মাত্র চোদ্দ বছর বয়সে মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। এখান থেকেই তার স্বাধীনতা সংগ্রামের সূত্রপাত ঘটে।

মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনে যোগদানের কিছু দিন পরেই চৌরি-চৌরা গণহিংসায় কয়েকজন পুলিশ কর্মীর মৃত্যু হলে গান্ধীজি আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিলে হতাশাগ্রস্থ ভগৎ সিং যুব বিপ্লবী আন্দোলনে যোগদান করেন। সেখানে সশস্ত্র বিপ্লবের পন্থায় ভারত থেকে ব্রিটিশ শাসন উৎখাত করার কথা প্রচার শুরু করেন।

কিশোর বয়সে লাহোরের ন্যাশানাল কলেজে পড়াশোনা আরম্ভ করলেও বাল্য বিবাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

কর্ম জীবন-স্বাধীনতা সংগ্রাম

বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি ‘নওজাওয়ান ভারত সভা’ সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে যোগদান করেন। কিছুদিনের মধ্যেই তার সহকর্মী যুবকদের মধ্যে জনপ্রিয়ও হয়ে ওঠেন। এরপর প্রফেসর বিদ্যালংকরের পরিচিত হওয়ার মাধ্যমে হিন্দুস্থান রিপাবলিক এসোসিয়েশনে যোগদান করেন। এই সংগঠনের কর্মকান্ড হিসাবে ‘কাকরি ট্রেন লুঠ’ করতে গেলেও অজ্ঞাত কারণে লাহোরে ফিরে আসেন। ১৯২৬ সালের অক্টোবর মাসে নবরাত্রিতে লাহোরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটলে, ভগৎ সিংকে লাহোর বোমা বিস্ফোরণ মামলায় গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পাঁচ সপ্তাহ পরে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। এই সময়ে তিনি অমৃতসর থেকে পাঞ্জাবী ও উর্দু ভাষায় পত্রিকা লেখেন তার পাশাপাশি সম্পাদনাও করেন । ১৯২৮ সালে অক্টোবর মাসে ‘কৃতি কৃষাণ পার্টি’ পতাকাতলে সমগ্র ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা একত্রিত হলে ওই সভায় তিনি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে তার বৈপ্লবিক কর্মকান্ডের জেরে তাকে ঐ সমিতির প্রধান বানানো হয়।

এছাড়াও জেলে ভারতীয় ও ব্রিটিশ বন্দীদের সমানাধিকারের দাবিতে সমর্থন আদায় করা ছিল তার ঐকাংক্ষিক প্রচেষ্টা। প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামী লালা লাজপত রায়ের হত্যার প্রতিশোধে হিন্দুস্থান সোশ‍্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের তত্ত্বাবধানে ভগৎ সিং এবং শিবরাম রাজগুরু এক ব্রিটিশ পুলিশ সুপার জেমস স্কটকে হত্যা করতে চাইলে ভুল বশতঃ ২১ বছর বয়সী ব্রিটিশ সুপারিন্টেড মিস্টার স্যান্ডার্সকে প্রথমে বোমা মেরে আহত করে তারপর তিনি কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করেন। ভগৎ সিং ও রাজগুরু পালিয়ে যাওয়ার সময় একজন ভারতীয় পুলিশ কনস্টেবল ধাওয়া করলে অপর এক সহযোগী চন্দ্র শেখর আজাদ চেন্নান সিংকে গুলি করে হত্যা করেন।

পালিয়ে যাওয়ার পর ভগৎ সিং ও তার সহযোদ্ধারা প্রকাশ্যে লালা লাজপত রায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। এরপর ভগৎ সিং কিছুদিন পলাতক থাকার পর পিতার সুপারিশ মতো ১৯২৯ সালের এপ্রিল মাসে এক সহযোগী বটুকেশ্বর দত্তের সহযোগে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় বিধানসভায় কম তীব্রতার দুটি বোমা ফেলেন। গ্যালারি থেকে নিচে বসে থাকা বিধায়কদের উপর লিফলেট বর্ষণ করে স্লোগান দেন ও কর্তৃপক্ষকে গ্রেফতার করার অনুমতি দেন। গ্রেফতারের পর সন্ডার্স হত্যাকান্ড মামলায় কারাবাস করেন। বিচারের অপেক্ষায় ভগৎ সিং ও সহ আসামী যতীন দাস কারাগারে ভারতীয় বন্দিদের ভালো অবস্থার দাবিতে অনশন করতে থাকেন। দীর্ঘ ৬৪ দিন অনশন করার পর অনাহারে যতীন দাসের মৃত্যু হয়। এরপর জন সোন্ডার্স ও চেন্নান সিং হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন।

সম্মাননা

২০১৫ সালের ১৫ই আগস্ট প্রাপ্তন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা দেবী সিং পাটিল মহাশয়া বিপ্লবী ভগৎ সিংয়ের সম্মানার্থে সংসদ ভবনে মূর্তি উন্মোচন করেন। ২০০৭ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর ভগৎ সিংয়ের জন্মদিন উপলক্ষে ভারতীয় সুপ্রিমকোর্ট ঐতিহাসিক বিষয়গুলি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে জাদুঘর নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও ভগৎ সিংয়ের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে পৈতৃক ভিটে খটকার কালানে শহীদ-ই-আজম সর্দার ভগৎ সিং মিউজিয়াম স্থাপন করা হয়েছে। ১৯৬৮ সালে ভগৎ সিং এর সম্মানার্থে ২০ টাকার ডাকটিকিট ও ২০১২ সালে ৫ টাকার কয়েন প্রেরণ করেন।

সম্প্রতি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদী ছত্রিশগড় বিমানবন্দরের নামের পরিবর্তে ‘শহীদ ভগৎ সিং এয়ারপোর্ট’ নাম করার ঘোষণা করেছেন।

মৃত্যুবরণ

জন সোন্ডার্স ও চেন্নান সিং হত্যা মামলায় ২৩শে মার্চ ১৯৩১ সালে মাত্র ২৩ বৎসর বয়সে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের লাহোর জেলে ফাঁসিতে মৃত্যুবরণ করেন।

ভগৎ সিং এর জীবনী PDF

File Details :


File Name : Bhagat Singh Biography
Language : Bengali
No. of Pages : 02
Size : 01 MB

আরও দেখুন :
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Recent posts

popular posts