Indian Constitution
July 25, 2022
ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক অধিকার | ভারতের সংবিধান
ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক অধিকার | ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক অধিকার গুলির বর্ণনা দাও।
![]() |
ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক অধিকার | ভারতের সংবিধান |
✍️ কলম
সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আজকের পোস্টে ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে আলোচনা করলাম। যেটির মধ্যে ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক অধিকার সমূহ সম্পর্কে খুব সুন্দরভাবে আলোচনা করা আছে। সুতরাং সময় অপচয় না করে পোস্টটি ভালো করে দেখে নাও।
১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ই আগস্ট ভারতবর্ষ স্বাধীনতা লাভ করে। ভারতবর্ষকে স্বাধীন ,সুগঠিত এবং সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনার লক্ষে ভারতবর্ষে সংবিধান রচনা করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে, এ উদ্দ্যেশে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের গণপরিষদ গঠনের প্রায় তিন বছর আলাপ-আলোচনার পর ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের ২৬শে নভেম্বর গণপরিষদে খসড়া সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ২৬শে জানুয়ারি থেকে নতুন সংবিধান কার্যকর হয়। মূল সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা, ৩৯টি ধারা এবং ৮টি তফশিল ছিল। ৯৮বার সংবিধান সংশোধনের ফলে বর্তমানে প্রায় ৪৪৮টি ধারা, অনেক উপধারা এবং ১২টি তফশিল আছে।
■ ভারতীয় নাগরিকের মৌলিক অধিকারঃ
সংবিধানের সর্বপ্রধান লক্ষ্য ছিল স্বাধীন ভারতের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানোর পাশাপাশি ভারতবর্ষকে বিশ্বের দরবারে এক স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, সার্বভৌম, ধর্মনিরপেক্ষ, প্রজাতন্ত্রী দেশ হিসাবে গড়ে তোলা। এছাড়া সামাজিক ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তপশিলি জাতি, উপজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর জাতির ক্ষেত্রে বিশেষ সংরক্ষণের ব্যবস্থা, শিশু ও নারীকল্যাণ, অস্পৃশ্যতা বিলোপ ইত্যাদি বিষয় গুলি সংবিধানে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এই বিষয়গুলি লক্ষ্য রেখে নাগরিকদের অধিকারগুলির মধ্যে যেগুলি ব্যক্তিত্বের বিকাশের জন্য অপরিহার্য তাই একাধারে মৌলিক অধিকারের স্থান দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় নাগরিকদের মৌলিক অধিকার গুলি বর্তমানে ভারতীয় সংবিধানের ১৪-৩০,৩২ ও ২২৬ নং ধারায় লিপিবদ্ধ রয়েছে।
■ মৌলিক অধিকার সমূহঃ
(১) সাম্যের অধিকার [১৪-১৮নং ধারা] ::
সাম্যের অধিকার বলতে আর্থিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে।রাষ্ট্রে কোনো নাগরিকের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করবে না।
(২) স্বাধীনতার অধিকার [১৯-২২নং ধারা] ::
নাগরিকদের স্বাধীনতার অধিকার বলতে- বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা,শান্তিপূর্ণ ও নিরস্থভাবে সমবেত হওয়ার স্বাধীনতা,সংঘ বা সমিতি গঠনের স্বাধীনতা, ভারতের সর্বত্র চলাফেরার স্বাধীনতা,ভারতীয় ভূখণ্ডের যেকোনো অংশে বসবাসের স্বাধীনতা,এবং যে কোনো জীবিকা-পেশা বা ব্যবসা বাণিজ্য করার স্বাধীনতা সুযোগ থাকবে।
(৩) শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার [২৩-২৪ নং ধারা] ::
এই অধিকার বলে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের শোষণ থেকে সাধারণ নাগরিকদের মুক্ত রাখার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে যেভাবে তা হল- কোনো ব্যক্তিকে ক্রয়-বিক্রয় করা বা বেগার খাটানো যাবে না, চোদ্দো বছরের কম বয়স্ক শিশুদের খনি,কারখানা বা অন্য কোনো বিপদজ্জনক কাজে নিযুক্ত করা যাবে না।
(৪) ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার [২৫-২৮ নং ধারা] ::
ভারতবর্ষ বহুজাতি-বহুধর্মের মানুষের দেশ তাই নাগরিকদের মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ গৃহীত হয়েছে। এই অধিকারের দ্বারা তা হল প্রত্যেক ব্যক্তির বিবেকের স্বাধীণতা এবং ধর্মপালন ও প্রচারের স্বাধীনতা আছে, কোনো বিশেষ ধর্ম প্রসারের জন্য কোনো ব্যক্তিকে করদানে বাধ্য করা যাবে না, এছাড়া কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া যাবে না।
(৫) সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক অধিকার [২৯-৩০ নং ধারা] ::
শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক অধিকার বলতে সকল শ্রেণীর নাগরিকের নিজস্ব ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতির বিকাশ ও সংরক্ষণ করতে পারবে ,ধর্ম বা জাতি বা ভাষা কোনো অজুহাতেই কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না ও ধর্ম অথবা ভাষাভিত্তিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলি নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবে।
(৬) সাংবিধানিক প্রতিবিধানের অধিকার [৩২ ও ২২৬নং ধারা] ::
ভারতীয় নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্টের কাছে আবেদন করতে পারে।এই অধিকারগুলো কার্যকর করার জন্য সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্ট বিভিন্ন লেখ (writ) জারি করতে পারে, যথা- হেবিয়াস কর্পাস, ম্যাণ্ডামাস, সারশিওরারি, প্রহিবিশান ও কুয়ো-ওয়ারান্টো।
ভারতীয় নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্টের কাছে আবেদন করতে পারে।এই অধিকারগুলো কার্যকর করার জন্য সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্ট বিভিন্ন লেখ (writ) জারি করতে পারে, যথা- হেবিয়াস কর্পাস, ম্যাণ্ডামাস, সারশিওরারি, প্রহিবিশান ও কুয়ো-ওয়ারান্টো।